লঞ্চের রাত ও আয়নার পেছনের ছায়া
(ঢাকার বাসিন্দা ‘তরী’-এর জীবনে ২০১৯ সালে ঘটে যাওয়া এক হাড়হিম করা সত্য ঘটনা।)
পর্ব-১: অন্ধকারের ছোঁয়া ও অচেনা কণ্ঠ
২০১৯ সালের এক অন্ধকার সন্ধ্যা। ঢাকার নিজের ঘরে বসে ছিল তরী। হঠাৎ তার মা ঘরে ঢুকে কেঁদে ফেলে বললেন, “তরী, তোর দাদু খুব অসুস্থ! কাল সকালেই আমাদের গ্রামে যেতে হবে।”
দাদুকে তরী বড্ড ভালোবাসে, খবরটা শুনেই তার বুকটা কেঁপে উঠল।
কিন্তু পরদিন সকালে বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল সব বাস বন্ধ! বাধ্য হয়ে তারা রাতের নদীপথে লঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
লঞ্চের ইঞ্জিনের ‘ধুপ-ধুপ’ শব্দ আর মেঘনা নদীর কুচকুচে কালো পানির ‘ছপ-ছপ’ শব্দে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তরীর মা হাসপাতালে নার্সের চাকরি করায় ছুটি পাননি, তাই তরী আর তার দিদিমা একাই রওয়ানা হলো।
কিন্তু লঞ্চে উঠে দেখা গেল কোনো কেবিন ফাঁকা নেই! অগত্য ডেকেই চাদর বিছিয়ে বসে পড়ল তারা।
রাত তখন ১১:৩০টা। চারপাশ নিঝুম, শুধু অন্ধকারের বুক চিরে এগিয়ে চলছে লঞ্চটি।
একটু ফ্রেশ বাতাস পাওয়ার জন্য তরী একা একা কেবিন এলাকার দিকে হেঁটে গেল। রেলিংয়ে হেলান দিয়ে চোখে জল নিয়ে সে আল্লাহর কাছে ডাকতে লাগল, “আল্লাহ, দাদুকে ভালো করে দাও…”
ঠিক তখনই পুরো লঞ্চের আলো দপ করে নিভে গেল! চারপাশ ডুবল নিঃছিদ্র কালো অন্ধকারে।
বাতাসের ‘হু হু’ শব্দের মাঝে তরী অনুভব করল, তার কাঁধে কেউ একটা বরফের মতো ঠান্ডা হাত রাখল!
আঁতকে উঠে পেছনে ফিরতেই দেখল তার দিদিমা দাঁড়িয়ে।
“কী রে তরী, খুব ভয় পেলি?” দিদিমা ফিসফিস করে হেসে উঠল।
কিন্তু ওই ফিসফিসানি কণ্ঠটা তরীর পরিচিত দিদিমার ছিল না! কণ্ঠটা ছিল অস্বাভাবিক , যেন পানির গভীর থেকে কেউ কথা বলছে!
তরী কি বুঝতে পারবে কে দাঁড়িয়ে আছে তার পেছনে?
(এমন ভয়ংকর সত্য গল্প প্রতিদিন পড়তে এখনই Follow করুন!)
পরের পর্বে থাকছে : দিদিমার কণ্ঠের পেছনের আসল রহস্য আর ওয়াশরুমের আয়নায় ফুটে ওঠা সেই নারকীয় দৃশ্য…
[পর্ব-২: আয়নার গায়ে কোনো ছায়া নেই!]
লঞ্চের অন্ধকার করিডোর ধরে তরী আর তার দিদিমা হাঁটছিল। কিন্তু বাতাসে ভেসে আসছে পচা নদী আর কাদার বিশ্রী এক দুর্গন্ধ।
তরী ভাবল, নদীর ঠান্ডা বাতাসে হয়তো দিদিমার গলাটা ভেঙে গেছে।
হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ তরীর ভীষণ ভয় করতে লাগল, কারণ দিদিমার হাঁটার কোনো পায়ের শব্দ হচ্ছিল না!
মুখ ধোয়ার জন্য তরী পাশে থাকা একটা ওয়াশরুমের দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজার পাশেই একটা পুরনো ঝাপসা আয়না ঝুলছিল।
আয়নার দিকে তাকাতেই তরীর শরীরের রক্ত জমে হিম হয়ে গেল! আয়নায় কেবল তরীর নিজের প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে, কিন্তু ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দিদিমার কোনো ছায়া নেই!
আতঙ্কে তরীর শ্বাস আটকে এলো। সে দ্রুত পেছনে ফিরে দেখল—দিদিমা তো ঠিক তার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে!
সে আবার আয়নার দিকে তাকাল… না! আয়না পুরো ফাঁকা! দিদিমা বলে কেউ নেই সেখানে!
হাত-পা কাঁপতে শুরু করল তরীর। বুঝতে পারল সে কোনো সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নেই!
চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে সে মনে মনে আয়াতুল কুরসি পাঠ করতে শুরু করল।
দোয়া শেষ করে চোখ খুলতেই তরী বিকট এক চিৎকার দিল! আয়নার ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে এক বিভৎস নারী মূর্তি! তার মুখ জুড়ে গভীর দাগ, চামড়া পচা আর চোখ দুটো ধবধবে সাদা!
মূর্তিটি আয়নার ভেতর থেকে হাত বাড়াতেই তরী জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল…
( এমন সত্য ভৌতিক গল্প প্রতিদিন পেতে এখনই Follow করুন!)
পরের পর্বে থাকছে (Teaser): দুদিন পর হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তরী যে সত্য জানতে পারল, তা শুনে পুরো পরিবার স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল…
পর্ব৩: পানির জিনের অভিশাপ ও রহস্যের সমাধান]
চোখ খুলতেই তরীর কানে এলো মেশিনের ‘বিপ-বিপ’ শব্দ। চারপাশে সাদা দেয়াল আর তার পুরো পরিবার কাঁদছে।
সে লঞ্চের মেঝেতে নয়, শুয়ে আছে একটি হাসপাতালের বেডে!
তরীর বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “মা রে, তুই টানা দুই দিন জ্ঞান হারিয়ে পড়ে ছিলি! আমরা ভেবেছিলাম তোকে আর পাবই না!”
লঞ্চের সেই রাতের কথা শুনতেই তরীর গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল।
পরিবারের লোকেরা জানাল, সেদিন রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে লঞ্চের পেছনের একদম বিপজ্জনক অংশে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়।
তরী যখন ভয় কাঁপানো কণ্ঠে রাতের দিদিমার কথা বলল, তখন তার দিদিমা কেঁদে উঠে বললেন, “বলিস কী তরী!
আমি তো সারারাত ডেকের চাদরে ঘুমিয়ে ছিলাম! তোকে তো আমি কেবিনের দিকে যেতেই দেখিনি!”
তাহলে সেই রাতে তরীর সাথে কে ছিল? কে তাকে অন্ধকার কেবিনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল?
পরে তরীকে এক প্রখ্যাত ইসলামি হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
হুজুর তরীর মাথায় হাত রেখে বললেন, “ওই রাতে তোর বেঁচে ফেরার কথা ছিল না মা। তুই যে দুষ্টু সত্তাকে দেখেছিলি, তা সাধারণ কোনো ভূত নয়—ওটা ছিল ‘পানির জিন’ বা ‘পানি-ডাইনি’। ওরা মানুষকে বিভ্রান্ত করে গভীর পানিতে টেনে নিয়ে যায়।”
হুজুর আরও বললেন, “তোর মুখে আয়াতুল কুরসির তেলাওয়াত শুনে ওই খবীশ জিন তোকে স্পর্শ করতে পারেনি, কিন্তু ভয় দেখিয়ে অজ্ঞান করে রেখে গিয়েছিল।”
তরী আজ পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু ২০১৯ সালের পর সে আর কোনোদিন লঞ্চে ওঠেনি।
সত্য ঘটনাটি কেমন লাগলো কমেন্টে জানান!
প্রতিদিন এমন হাড়হিম করা নতুন নতুন গল্প ও ভিডিও পেতে এখনই Follow করে রাখুন।]




