বটগাছের নিচে মিমের সাথে কী ঘটেছিল? ( সত্য ঘটনা)

(আজকের এই হাড়হিম করা সত্য ঘটনাটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন আরবী ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছিল তার মেজো বোন মিমের সাথে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য,)​

পর্র১:মজান মাস। চারদিকে পবিত্র একটা পরিবেশ। মিমের বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে ইফতার পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু দুই পরিবারের মধ্যে তখন মারাত্মক ঝগড়া।হঠাৎ করেই সব ইফতার ফেরত চলে আসে!অপমানে মিমের পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়, এই ইফতার তারা আত্মীয় আর প্রতিবেশীদের মাঝে বিলিয়ে দেবে।​সবাইকে দেওয়ার পর কিছু খাবার বাকি ছিল। মিম আর তার ছোট ভাই সেই খাবার নিয়ে রওনা হলো তাদের ফুফুর বাড়ির দিকে।সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্ত। রাস্তাটা বেশ নির্জন। পথের ধারে একটা মরা খাল, আর সেই খাল পেরোলেই একটা বিশাল, প্রাচীন বটগাছ।এই গাছটা নিয়ে এলাকায় শয়ে শয়ে ভূতের গল্প প্রচলিত। হিন্দুরা এই গাছের নিচে লাল কাপড় বেঁধে পূজা করে।​রমজান মাস বলে মিম আর তার ভাই বেশ সাহসী ছিল। তারা জানত, এই মাসে খারাপ আত্মারা বন্দি থাকে।খালটা পার হতেই হঠাৎ চারপাশের বাতাস যেন ভারী হয়ে এল।মিমের মেরুদণ্ড বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল।​হঠাৎ মনে হলো, বটগাছের উঁচু ডাল থেকে কেউ একজন একদৃষ্টে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে!মিম মাথা তুলে তাকালো না, ভয়কে পাত্তা না দিয়ে হাঁটতে শুরু করল ফুফুর বাড়ির দিকে।​(গল্পে মাত্র তো ভয় শুরু হলো!

( এরকম ঘটনা সবার আগে পেতে ডানে বেল আইকোনে ক্লিক করে সাবক্রাইব করুন)

ফুফুর বাড়ি পৌঁছানোর পর মিম গেল ওয়াশরুমে হাত-মুখ ধুতে। কারেন্ট নেই ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ মিমের চোখ গেল কোণার দিকে।সেখানে জ্বলজ্বল করছে দুটো উজ্জ্বল লাল চোখ! একটা বিশাল কালো বিড়াল।বিড়ালটা নড়ছে না, শুধু মিমের দিকে তাকিয়ে আছে।​হঠাৎ— ‘ছলাৎ!’ওয়াশরুমের বালতির পানিতে ভারী কিছু একটা পড়ার শব্দ হলো!মিম চমকে পেছনে তাকাল, কিন্তু বালতির কাছে কেউ নেই!​[আগামী পর্বের :] বালতির শব্দের পর মিমের শরীরে কীসের ভর হলো? ফেরার পথে বটগাছের নিচে কে টেনে ধরেছিল মিমকে? জানতে পড়ুন আগামী পর্বে!​

পর্ব ২: রাতের অন্ধকারে অদৃশ্য হাতের টান​বালতির সেই ভয়ংকর শব্দের পরই মিমের শরীরে যেন আগুন ধরে গেল!মুহূর্তের মধ্যে তার শরীরে নামল প্রচণ্ড জ্বর।কাঁপতে কাঁপতে সে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল।​ফুফু দৌড়ে এলেন। মিমের গায়ে হাত দিয়েই তিনি শিউরে উঠলেন।”তোর মেয়ের গা তো পুড়ে যাচ্ছে! এই অবস্থায় ও বাড়ি যাবে কীভাবে?” ফুফু মিমের মাকে কল করে বললেন।মিমের মা অবাক, “আমার মেয়ে তো একদম সুস্থ ছিল! হঠাৎ জ্বর কেন আসবে? ওকে এখনই বাড়ি পাঠাও!”​অসুস্থ শরীর নিয়ে মিম আর তার ভাই আবার সেই বটগাছের রাস্তা দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো।ততক্ষণে চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাত নেমে গেছে।বটগাছটার কাছাকাছি আসতেই মিমের মনে হলো, তার পা দুটো মাটিতে গেঁথে যাচ্ছে।কে যেন পেছন থেকে তার শার্টের কলার ধরে সজোরে টানছে!​

জীবন হাতে নিয়ে মিমরা বাড়ি পৌঁছাল।ডাক্তার এসে কড়া ডোজের ওষুধ দিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত কড়া ওষুধেও মিমের জ্বর এক ফোঁটাও কমল না!আসল ভয়ংকর ঘটনা শুরু হলো সেদিন মাঝরাতে।​মিম তার বড় বোনের সাথে ঘুমিয়ে ছিল।হঠাৎ রাত তিনটার দিকে মিম উঠে বসল। তার চোখ দুটো স্থির।বড় বোন কিছু বোঝার আগেই মিম দুই হাত দিয়ে তার বোনের গলা চেপে ধরল!বোন আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল!বড় বোন আর তার পাশে শুবে না তাই ​পরের দিন রাতে মিমের মা ভয়ে ভয়ে মেয়ের পাশে শুলেন।কিন্তু রাত বাড়তেই মিম আবারও হিংস্র হয়ে উঠল। এবার সে তার নিজের মায়ের গলা চেপে ধরল!তার গায়ের জোর এত বেশি ছিল যে, তিনজন মিলেও তাকে ছাড়াতে পারছিল না।​

[আগামী পর্বের টিজার:] হিন্দু বৈদ্যের সামনে মিমের অদ্ভুত রূপ এবং সেই অশুভ আত্মার ভয়ংকর শর্ত! মিমের মার কি হয়েছিল সেদিন.? শেষ পর্ব মিস করবেন না।​

পর্ব ৩: সিঁথিতে সিঁদুর, চোখে অন্ধকার​মিমের এই অস্বাভাবিক রূপ দেখে পরিবার বুঝতে পারল, এটা কোনো সাধারণ রোগ নয়।তারা এলাকার এক পরিচিত মহিলা বৈদ্যকে (কবিরাজ) খবর দিল।মহিলা সব শুনে বুঝতে পারলেন, ব্যাপারটা সুবিধার নয়। তিনি রাতেই মিমদের বাড়িতে হাজির হলেন।​বৈদ্য তার আসন পাততেই মিমের আচরণ পাল্টে গেল।হঠাৎ মিমের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেল। তার চোখের চারপাশ কয়লার মতো কুচকুচে কালো হয়ে গেছে!সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো

— মিমের সিঁথিতে হঠাৎ করে টকটকে লাল সিঁদুর দেখা গেল!​বৈদ্য কড়া গলায় ধমক দিলেন, “কে তুই? এখনই এই মেয়ের শরীর ছেড়ে চলে যা!”মিম হঠাৎ অদ্ভুত এক পুরুষালি গলায় খ্যাকখ্যাক করে হেসে উঠল।”না! আমি ওকে ছাড়ব না। ও সেদিন আমার বটগাছের নিচ দিয়ে হেঁটে আসছিল। ওকে আমার বড্ড পছন্দ হয়েছে। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে আমি বিয়ে করবো। আমি ওকে নিয়েই যাব আমার দেশে!”​​বৈদ্য সময় নষ্ট না করে একটা ছোট বেতের ডালে কিছু মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলেন।তারপর সেই ডাল দিয়ে মিমের গায়ে সজোরে আঘাত করতে শুরু করলেন।মিম যন্ত্রণায় অদ্ভুত ভাষায় চিৎকার করতে লাগল!কয়েক মিনিট পর মিম হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।​কিছুক্ষণ পর মিমের জ্ঞান ফিরল।বৈদ্য এবার মিমের মুখের কাছে গিয়ে মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিয়ে বললেন, “কী ব্যাপার? তুই কি ওর শরীর ছাড়বি না? তোর কী চাই বল?”মিম এবার দুর্বল গলায় বলল, “হ্যাঁ, বা-বা, আমি ছেড়ে যাব। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।””কী শর্ত?””আগামী নয় দিনের মধ্যে, মাগরিবের আজানের আগে ঐ বটগাছের নিচে আমার জন্য মিষ্টি রেখে আসতে হবে মিষ্টি আমার খুব পছন্দ । নাহলে আমি আবার ফিরে আসব!”​পরিবারের আর কোনো উপায় ছিল না।কয়েকদিন পর, ঠিক সন্ধ্যার দিকে, মিমের বাবা-মা ভয়ে ভয়ে সেই প্রাচীন বটগাছটার নিচে এক হাঁড়ি মিষ্টি রেখে আসেন।এরপর থেকে মিম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।কিন্তু আজো, ওই বটগাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মিম আর তার ভাইয়ের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। কে জানে, হয়তো সেই লাল চোখ আজও পাতার আড়ালে লুকিয়ে তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে!একদস সত্য ঘটনা।​[শেষ]

একদম সত্য ঘটনা!

​আমাদের আজকের প্রশ্ন: আপনার এলাকায় কি এমন কোনো গাছ আছে যেখানে মানুষ পূজা করে বা ভূত থাকার গুজব আছে? কমেন্টে গাছটির নাম এবং আপনার এলাকার নাম আমাদের জানান!​👉 ঘটনা ভালো লাগলে ডানে বেলআইকোনে ক্লিক করে সবাক্রাইব করতে ভুলবেন না !

Was this helpful?

Leave your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *